উন্নয়ন প্রকল্প পাসে কড়াকড়ি, মানোন্নয়নে ১৩ নির্দেশনা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১১:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১১:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন
উন্নয়ন প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের গুণগত মান বাড়াতে ১৩টি নির্দেশনা জারি করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময় বিনিয়োগের আর্থিক সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রকল্প গ্রহণের আগে ব্যয়ের বিপরীতে কী পরিমাণ সুফল পাওয়া যাবে, জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে এবং প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পের ডিপিপিতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ভ্যালু ফর মানি (ভিএফএম) নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের মানদণ্ড, সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে বিনিয়োগের বিপরীতে আর্থিক রিটার্ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করতে হবে।
জারিকৃত নির্দেশনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো সহজে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাম্প, লিফট, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন ক্রেডিট-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন অবকাঠামোর সমন্বয় থাকতে হবে। প্রকল্পগুলো যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টিও ডিপিপিতে তুলে ধরতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম পরিকল্পনা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনার ফলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ বরাদ্দের বিষয় নয়, বরং প্রকল্পের প্রকৃত সুফল, অর্থনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাও বিবেচনায় আসবে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, প্রকল্পের মান বাড়ানো এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইনভেস্টমেন্টর করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ এসব প্রকল্পের অর্থায়নে বড় একটি অংশই আসে ঋণ থেকে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হয়। তাই প্রকল্প অনুমোদনের আগে এর সম্ভাব্য সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আর্থিক রিটার্ন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এসব বিষয় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হতো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা উপেক্ষিত হয়েছে। এখন থেকে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করেই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন দেওয়া উচিত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স